পরেশচন্দ্র দাশগুপ্ত

অণিমা প্রকাশনী

যী] ১৪১, কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রীট

কলকাতা - ৭০০ ০০৯

PRAGAITIHASIK BANGLA (Ancient History of Bangal)

Written by Published by

Published on Illustrated & Enlarged Edition on

Price

Sr

প্রকাশ কাল বর্ধিত এবং পরিমার্জিত সংস্করণ

প্রকাশক

প্রচ্ছদ শিল্পী আলোক চিত্র

যান্ত্রিক শব্দগ্রন্থুক

o o

oo

৩০

Paresh Chandra Dasgupta

D. Kar, Anima Prakashani 141, Keshab Chandra Sen Street Kolkata 700 009.

August 15, 1981

Calcutta Book Fair, January 2004 Rs. 60.00

গ্রন্থকার

রাখী পূর্ণিমা, শ্রাবণ ৩০, ১৩৮৮

কলকাতা বইমেলা, মাঘ ১৪১০ -

দ্বিজদাস কর, অণিমা প্রকাশনী ১৪১, কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রীট কলকাতা - ৭০০ ০০৯ ধীরেন শাসমল

রণজিতকুমার সেন

পঃ বঃ রাজ্য প্রত্বুতত্ব অধিকারের সৌজন্যে মুদ্রিত PAC 4

২০৯/২৩, মহারাজা নন্দকুমার রোড কলকাতা - 300 ০৩৬

সাহারা প্রিন্টার্স ১১০/১/১সি, ডাঃ লালমোহন ভট্টাচার্য রোড কলকাতা - ৭০০ ০১৪

৬০.০০

P উৎসর্গ e

ভারতের প্রত্বুতত্ব গবেষণায় সমীক্ষণে যিনি ছিলেন অগ্রকর্মী পথপ্রদর্শক সেই নিবেদিত প্রাণ যুগপ্রবর্তক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় মহোদয়ের পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে =

লেখব

39 Wl og

লেখক পরিচিতি

মুখবন্ধ

ভূমিকা (প্রথম সংস্করণ)

ভূমিকা (দ্বিতীয় সংস্করণ) পশ্চিমবঙ্গের ভূসংগঠন সভ্যতার আবির্ভাব মানুষের বিবর্তন প্রস্তর যুগের AAS পশ্চিমবঙ্গে আদি প্রস্তর যুগ

পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তর যুগ নবাশ্মীয় পর্ব সভ্যতার উত্তরণ

তাত্রযুগ সভ্যতার নবীন অধ্যায়

সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসূচী লেখকের প্রকাশিত আংশিক রচনাবলী

p, লেখক পরিচিতি

শ্রী পরেশচন্দ্র দাশগুপ্ত ১৯২৩ সালের ১লা এপ্রিল কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ডঃ তমোনাশচন্ত্র দাশগুপ্ত (১৮৯২-১৯৬৯) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা বাংলাভাষা E এনেছিলেন তাদের অন্যতম এবং বাংলাভাষা e সাহিত্যের প্রথম প্রধান এবং রামতনু লাহিড়ী অধ্যাপক | আচার্য (ডঃ) দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন তার মাতামহ।

স্বৰ্গত পরেশচন্ত্র দাশগুপ্তের জীবৎকাল সীমিত, মাত্র ৫৯ বছর। কিন্তু এই ৫৯ বছরেই তিনি প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের উপাদান ভাবনার খোলনলচে বদলে দিয়েছেন। "Academic Decolonisation"-43 সেটা BF | ASAA লিখলে মানবো নাহলে নয় এসব ধারনা অভ্যাস তিনি ১৯৪৭. ১৯৪৮ সাল থেকেই বাতিলের পর্যায়ে ফেলে দিয়ে সম্পূর্ণ একক প্রচেষ্টায় বাংলার তথা পূর্বভারতের ইতিহাসের পর্দা কয়েক হাজার বুধ পিছন দিকে গুটিয়ে ফেলেছেন রীতিমত পাথুরে প্রমাণের দ্বারা। পরেশচন্দ্র দাশগুপ্তের আগে ভাবা হত বঙ্গের ইতিহাস খুব বেশী হলে আলেকজান্ডারের আক্রমণ মৌর্য বংশ থেকে, তার আগে সব কিছুই ভাসাভাসা পৌরাণিক, ইত্যাদি। ১৯৪৮ থেকে ১৯৮২ অবধি এই ৩৪ বছর ধরে অনলস খননকার্য সংগ্রহের দ্বারা তিনি বাংলায় তাতপ্রস্তর যুগের আবিষ্কার করলেন এবং অন্যান্য পুরাতাত্বিক সংগ্রহ খননকার্ষের দ্বারা বাংলার ইতিহাস ইতিহাস ভাবনাকে সম্পূর্ণ পাপ্টেদিলেন। ১৯৬১-১৯৬৯ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রমাণিত হল আজ থেকে সাড়ে চার হাজার বছর আগেও বাংলার সমৃদ্ধ সভ্যতা ছিল যার সাথে যোগাযোগ, ছিল তূমধ্যসাগরীয়

প্রাগেতিহাসিক বাংলা

সভ্যতাগুলির। এসব ক্ষেত্রে তিনিই একা, পথপ্রদর্শক AAMAS পূর্বভারতে এক্ষেত্রে তার ভূমিকা রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মতই বস্তুতঃ শেষ পুস্তকটি (প্রাগৈতিহাসিক বাঙলা) তিনি রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়কেই উৎসর্গ করে গেছেন।

এইসব করতে গিয়ে তাকে বারেবারেই বৃত্তি পদ পরিবর্তন করতে হয়েছে। অতি সংক্ষেপে ১৯৪৬ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাচীন ইতিহাসে এম.এ. (Archaoclogical Survey of India-3 প্রাক্তন Director-General ডঃ দেবলা মিত্র তার সহপাঠিনী ছিলেন) পাশ করবার পরে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অধ্যাপনা শেষে তাশ্রলিপ্ত কলেজ পরে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অল্প বয়সেই অধ্যাপকের পদে বৃত হন। ১৯৬০ সালে লেখা 02175911096 : a forgotten Civilization (Journal of the Department of Letters - Calcutta University) প্রবন্ধটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে। এই জন্য যে প্রবন্ধটিতে বিধৃত আছে “বাঙলার মৃত্তিকার নীচে এক ভুলে যাওয়া সভ্যতা বিদ্যমান” (তার স্বল্প জীবনের সুকার্য সেই হারানো সভ্যতাটিকেই তুলে ধরে)। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে Department of Museology-3 উদ্ঘাটন করেন, পরে খননকার্ষে সুবিধার জন্য সদ্যগঠিত ' পশ্চিমবঙ্গ YASS বিভাগে প্রথম Director হিসাবে যোগদান করেন ১৯৮১ সাল অবধি (অবসর গ্রহণ কাল) সেই পদে ছিলেন। ১৯৮১-র শেষে তিনি Australia-3 Melbourne University তে Faculty of Asia-Pacific Archaoclogy-3 Dean হিসাবে নির্বাচিত হন। কিন্তু অকস্মাৎ অসুস্থ হয়ে ০৯.০৯.১৯৮২ ভোরবেলা ইহলোক ত্যাগ করেন।

BA WIT ফণীভূষণ গুপ্ত (১৯০০-১৯৫৬) ভারতীয় সরকারী আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তার পত্নী, এক পুত্র চার কন্যা বর্তমান। রচনাবলী ংখ্য বিভিন্ন ভাষায়, আনুমানিক ছয় হাজারের CTA প্রধান কয়েকটি গ্রন্থ যেমন Excavation of Pandu Rajar, Dhibi, প্রাগৈতিহাসিক শুশুনিয়া, অরণ্যছায়ার দুর্গে, Exploring Bengali Past, ইত্যাদি।

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, ১৪ ১০

p TU a

মানব সভ্যতার সূচনাপর্বের কথা সমস্তদিক থেকে সম্ভবত আজও সুস্পষ্ট নয়। কবে বা কোথায় বিবর্তনের ধাপ পেরিয়ে বুদ্ধি বিকাশ শুরু হল এবং মানুষ তার প্রয়োজনের হাতিয়ার তৈরী করতে শিখল তা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে এবং হবে। তবে একথা অনস্বীকার্য ভারতবর্ষও বিশ্বের অন্যান্য অংশের মত এই আদি মানবের ক্রমবিকাশ বা অগ্রগতির ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল না। বিষয়টা জটিল কেননা তথ্য এবং সূত্র খুবই সীমাবদ্ধ। তবুও ভ্যালেন্টাইন বল থেকে শুরু করে নির্মল বসু, এইচ. ডি. সাঙ্কালিয়া, ভি. ডি. কৃষ্ণস্বামী, কে. ডি. ব্যানার্জী প্রমুখের গবেষণা এবং অনুসন্ধান অনেক তথ্যের জোগান দিয়েছে। কিন্তু বাঙলার প্রত্বতান্তিক গবেষণার ক্ষেত্রে শ্রদ্ধেয় পরেশনন্দ্র দাশগুপ্তের অবদান অনন্য | নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে ক্ষেত্রসমীক্ষার দ্বারা তিনি বিশেষত বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রস্তরযুগের আদিপর্ব থেকে শুরু করে ধারাবাহিকতার যে প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন বা বিশ্বপ্রেক্ষাপটে তার এক তুলনামূলক আলোচনা তার রচিত প্রাগৈতিহাসিক বাঙলা রচনাটির মূল বিষয়বস্তু

ইতিপূর্বে বাংলা ভাষায় বিষয়ে বিশদ তথ্যযুক্ত arg প্রকাশিত হয়নি বলাযায়। শ্রী দাশগুপ্তের অনুকরণীয় ভাষাশৈলী বিষয়টিকে চিত্তাকর্ষক করে তুলেছে। প্রস্তর যুগের আদি বিন্যাস এবং বাঙলার বিভিন্ন স্থান বিশেষত APS! জেলার শুশুনিয়া পাহাড়ে প্রাপ্ত নিদর্শনগুলির বিশ্লেষণ রচনাটিকে সমৃদ্ধ করেছে সন্দেহ নেই। পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে বিবৃত নবাশ্মীয় পর্ব এবং তাশ্রযুগের বাংলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র প্রত্বুতাত্তিক সমীক্ষা এবং মননের সাহায্যে প্রাপ্ত তথ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত গ্রস্থকারের খননকার্ষে আবিষ্কৃত

প্রাগৈতিহাসিক বাংলা

পান্ডুরাজার টিবির নিদর্শনসমূহ বাঙলার নবাশ্মীয় এবং তাত্রপ্রস্তরযুগের এক অসাধারণ দলিল। পুস্তকটি একাধারে যেমন বাঙলার মানুষের প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে এঁতিহাসিক যুগে উত্তরণের বিবরণ বহন করছে তেমনই বিশ্বের অন্যান্য স্থানে পাওয়া নিদর্শনসমূহের সঙ্গে এক তুলনামূলক আলোচনার দ্বারা এখানকার আবিষ্কারগুলির তাৎপর্য নির্ণয়ে দিকনির্দেশ করছে।

অত্যন্ত অল্প মূল্যের এই পুস্তকটি লেখকের জীবদ্দশায় ১৯৮১-তে প্রথম প্রকাশিত হওয়ার অল্পকালের মধ্যেই নিঃশেষিত হওয়ায় এবিষয়ে উৎসাহী গবেষক এবং পড়ুয়ারা অত্যন্ত অসুবিধায় পড়েন। এটি পুনর্মু্রিত হলে বহুকালের অভাব দূর হবে। আজ এই জ্ঞানতপন্থবী আমাদের মধ্যে AS তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা আমরা এই প্রকাশনার দ্বারাই নিবেদন করতে পারব বলে মনে করি।

মহালয়া, ১৪১০ বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতীয় প্রত্বুতত্তব অধিকারের কলকাতা চক্রের অধিকর্তা

e

প্রথম সংস্করণ

প্রাচীন বিশ্বে মানুষের প্রথম অভ্যুদয়কে ঘিরে যে সব কাহিনী রচিত হয়েছে তাদের তাৎপর্য প্রকৃতই অসাধারণ। প্রাসঙ্গিক এই রহস্যময় ইতিবৃত্তের প্রতিটি অনুপর্ব আজ বিজ্ঞানীর জীবনসাধনার দীপশিখায় ক্রমঃ আলোকিত। MEAT যুগের শতস্মৃতিঘেরা আঙ্গিনার ওপারে যেন বিবর্তনের প্রগতির দীর্ঘ পথ হারিয়ে গেছে এক আশ্চর্যময় নিসর্গচিত্রের মধ্য দিয়ে দূরের ANTS | পৃথিবীর বহু দেশেই এই হারানো ইতিবৃত্তের পূর্ণ মূল্যায়ন আজও হয়নি। PUI ধারায় পরিচালিত নানা গবেষণার ভিত্তিতে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরাতাত্তিকদের আত্মনিবেদনের মধ্য দিয়ে আজ স্পষ্টীকৃত হয়ে চলেছে প্রস্তর যুগের পরম্পরাগত অধ্যায়গুলির রহস্য এবং তামা ব্রোঞ্জ প্রচলন-চিহ্নিত পর্বসমূহের সংস্কৃতির কাহিনী। সব মিলে এমন এক মহাকাব্য যেখানে খুঁজে পাওয়া যাবে বিস্মৃত সেই প্রথম প্রহরের আদিম মানুষের জীবনসংগ্রামের রূপরেখা, তার বিবর্তনের চারণ-গান এবং উত্তরণশীল চেতনার সাক্ষ্য, নবীন সংস্কৃতির উপাখ্যান প্রকৃতপক্ষে, এই একই বিবর্তন, উত্তরণ জীবনালেখ্যর সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায় প্রাচীন আফরিকা, এশিয়া ইয়োরোপের গহনে বিভিন্ন নিসর্গবৃত্তে নানা গিরি, নদী অরণ্যের পটভূঁমিকায়। মানুষের আগমন প্রসঙ্গে পুরাতাত্বিকদের উদ্যম অন্বেষা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে আজও GIA | গবেষণার ক্ষেত্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব থাকলেও সর্বত্রই প্রতিভাসিত হয় সর্বশ্রেণীর মানবগোষ্ঠীর তথা “হোমিনিড'-দের আচরণে অনুভবে বিরাজমান এক মূলগত এঁক্য এবং সাংস্কৃতিক একাকীত্ব সত্তেও এক সমান্তরাল অথবা কিছুটা তুলনীয় ব্যাপ্তি। এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু প্রাগৈতিহাসিক বাংলার কাহিনীকে উপলব্ধি করা যাবে এই বিশিষ্ট প্রসঙ্গে যেখানে গবেষকদের ভাবনা

১২

প্রাগৈতিহাসিক বাংলা

প্রয়াসকে অভিষিক্ত করে নব নব SHRM | SSS প্রাইস্টোসিন পর্বে বাংলায় অবস্থানকারী কিংবা দেশে পর্যটনশীল প্রস্তরযুগের মানব গোষ্ঠীগুলির পরিচয়যোগ্য সাংস্কৃতি ধীর প্রগতি আলোচিত হয়েছে সীমিত পরিসরে প্রস্তরযুগের পরবর্তী অধ্যায়কে ব্যক্ত করবার জন্য নিবেদিত হয়েছে পশ্চিমসঙ্গে অতিবাহিত তাশ্রযুগের কাহিনী। আজ থেকে তিন হাজার বছরেরও আগে দেশের এক সুবিস্তৃত অঞ্চলে উন্নত তাশ্রাশ্মীয় (ক্যালকোলিথিক') সভ্যতার উপস্থিতি প্রাচ্-ভারতের ইতিহাসকে যে এক নব পরিসর দান করেছে সে বিষয়ে এখন পুরাতাত্বিকগণ GEMS | এখানে উল্লেখ্য, মগধের রাজা বিদ্বিসার তৎপুত্র অজাতশক্রুর কিংবদস্তীমুখর পর্বেরও পাঁচ শতাধিক বসব পূর্বে এই সভ্যতার অভ্যুদয় প্রসার ঘটেছিল।

অবিভক্ত বাংলার প্রাগৈতিহাসিক জনজীবনের পরিবর্তনশীল পর্যায়গুলির বিভিন্ন Woe ছড়িয়ে আছে এই ভূখণ্ডের প্রাচীন পাললিক বিন্যাসে এবং শিলাময় কিংবা পার্বত্য পরিবেশে | পশ্চিমের আরণ্যক ভূমিতে, বিভিন্ন গিরির পটভূমিকায় এবং গ্রীষ্মে বিশীর্ণ স্লোতস্বতীগুলির কিনারায় যেমন বহু হাজার বছর পূর্বেকার এক ছায়াময় অতীতকে খুঁজে পাওয়া যাবে তেমন উত্তরে নিন্ন-হিমালয়ের বিভিন্ন উপত্যকায় কৃষি চত্বরে মেঘ রৌদ্রের লীলাক্ষেত্রে আবিষ্কৃত হয়েছে নবাশ্মীয় (নিওলিথিক') সংস্কৃতির সৃষ্টি সংখ্যাতীত হাতিয়ার। “দার্জিলিং হিমালয়ে*র গহনে মহারঙ্গিত নদীর কিনারায় প্রসারিত গিরিশিরায় অবস্থিত মহাশ্মীয় (€মেগালিথিক') কীর্তির এক সমষ্টি স্বভাবতই এক বিশিষ্ট রহস্যের অবতারণা করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও সংগৃহীত হয়েছে নবাশ্মীয় সংস্কৃতির নিদর্শন মসৃণ কুঠার। এখানে উল্লেখ্য, ইতিহাসপূর্ব কালে বাংলাদেশ ত্রিপুরার সীমান্তপারে ব্ৰহ্মদেশ আসাম ছিল প্রস্তরযুগের এই নবীন সংস্কৃতির লীলাক্ষেত্র। বর্তমান গ্রন্থে প্রাগৈতিহাসিক বাংলার পুরাতাত্বিক ইতিবৃত্ত আলোচিত হয়েছে তার নিজস্ব প্রেক্ষাপটে।

পুরাতাত্তিক বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিচালিত বহু বছরের গবেষণা সমীক্ষা বর্তমান আলোচনার ভিত্তিবরূপ। এখানে সর্বপ্রথম স্মরণ করি বিগত শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভ্যালেন্টাইন TAPS আবিষ্ত্রিয়াকে যার ফলে ওড়িশা

ভূমিকা

তৎকালীন ASA সমন্বিত বাংলা তথা প্রাচ্য-ভারতের প্রস্তরযুগের সংস্কৃতির প্রতি সর্বপ্রথম গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। ভ্যালেন্টাইন বল- এর আবিষ্কার পর্যবেক্ষণের অনেক বছর পর বাংলায় সাম্প্রতিক অতীতে গবেষণার এই ব্যাপক ক্ষেত্রে এগিয়ে আসেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত নৃতত্ব বিভাগ এবং ভারতীয় পুরাতত্তব সর্বেক্ষণ। উল্লিখিত নৃতত্ব বিভাগের প্রচেষ্টা এবং ভারতীয় পুরাতত্ব সর্বেক্ষণের দ্বারা অনুষ্ঠিত বিভিন্ন উৎখনন, অনুসন্ধানকার্য আবিষ্করয়া প্রাগৈতিহাসিক বাংলার চিত্রটিকে তাৎপর্যময় করে তুলেছে নিঃসন্দেহে | তবে এই চিত্রটি সুস্পষ্ট রূপ প্রাপ্ত হয় বিশ্বের প্রত্ুতান্তিক মানচিত্রে বাংলাকে তার যথার্থ গৌরবময় স্থানে অভিষিক্ত করেছে বিগত কুড়ি বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের AOG অধিকারের দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন উৎখনন নানা গুরুত্বপূর্ণ অভিযানকার্যের ফলে। ১৯৬০ সালের শেষ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যস্ত দুই দশক উল্লিখিত অধিকারের অধিকর্তা রূপে এই সব খনন কার্যে, অভিযানে আবিস্ক্রিয়ায় আমাকে নিবিড়ভাবে অংশ গ্রহণ করতে হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে, প্রাগৈতিহাসিক বাংলার যে অসাধারণ ইতিবৃত্তের ভাবরূপ আজ প্রকাশিত হয়েছে তার মূলে আছে নানা পরিকল্পনা উদ্যোগ আর নানা বিচিত্র ঘটনাক্রম। রাজ্যের প্রত্তত্তব অধিকারের উদ্যোগেই উৎখনন পরিচালিত হয়েছে পাগুরাজার টিবি বাণেশ্বর ডাঙ্গার তাত্রাশ্মীয় ধবংসাবশেষে এবং এই অধিকারের দ্বারা আবদ্ধ ধারাবাহিক পর্বতসমূহের প্রচলিত হাতিয়ার শ্রেণী। শেষোক্ত হাতিয়ার নানা বিলুপ্ত প্রাণিকুলের, বিশেষতঃ মেরুদণ্ডী পশুর, প্রস্তরীভূত ভগ্ন কঙ্কালগুলি নির্দেশ করে প্লাইস্টোসিন পর্বের এক প্রাচীন আবহাওয়া পরিবেশের প্রতি। এই গবেষণাকে আরও সার্থকতা দান করেছে ১৯৭৮ সালের একটি আবিষ্কার, মেদিনীপুর জেলার সিজুয়ী গ্রামের অদূরে আবিষ্কৃত এক তরুণ মানবের (‘হোমো সেপিয়েন্স সেপিয়েন্স”) আংশিক রূপে শিলীভূত ভগ্ন চোয়াল। ভারতীয় GG বিভাগের প্রাচীন প্রাণী বিজ্ঞান শাখার বিশেষজ্ঞগণ এই “ফসিল’টিকে নির্দেশ করেছেন আজ থেকে প্রায় দশ হাজার বছর পূর্বের দিগন্তে আদি-হোলোসিন পর্বে।

৯৩

১৪

প্রাগৈতিহাসিক বাংলা

রাজ্যের AYSS অধিকারের দ্বারা অনুষ্ঠিত উৎখনন, অনুসন্ধানকার্য, গবেষণা ইত্যাদির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন অমূল্য সাহায্য উপদেশ দানের জন্য ধন্যবাদ জানাই পুণে নগরীতে অবস্থিত “ডেকান কলেজ পোষ্ট গ্রাজুয়েট রিসার্চ ইনসটিটুট'-এর ভূতপূর্ব অধিকর্তা ডঃ এইচ. ডি. সাঙ্কালিয়াকে, ভারতীয় নৃতত্ব সর্বেক্ষণের পূর্বতন অধিকর্তা প্রয়াত অধ্যাপক নির্মলকুমার CAAT, ভারতীয় SHS সর্বেক্ষণের প্রাণীবিজ্ঞান শাখার প্রাক্তন অধিকর্তা শ্রী এম. ডি. এ. শান্ত্রীকে, প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ডঃ শ্যামাদাস চ্যাটাজীকে এবং রাজ্যের ARGS অধিকারে নিযুক্ত কর্মীদের আত্মনিবেদিত ARCA ASICS |

পরিশেষে ধন্যবাদ জানাই প্রীতিভাজন শ্রী বিমলেন্দু চত্রবর্তীকে,যীর একক উদ্যমে এই গ্রন্থটির প্রকাশনা সম্ভব হল। বইটির প্রুফ দেখে শ্রী দ্বিজদাস কর শ্রীলঙ্ষ্মীকাস্ত মান্না আমাকে WH করেছেন। পরিশেষে, গবেষণা উপলক্ষে বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ দিয়ে সদা সাহায্য করেছেন রাজ্য প্রত্বতত্ব অধিকারের কর্মী শ্রী ভাঙ্কর ভট্টাচার্য এবং ভারতীয় FATS সর্বেক্ষণের অন্তর্গত পূর্বচক্রের গ্রস্থাগারিক শ্রী দেবপ্রিয় দাশগুপ্ত এই গ্রন্থ পাঠকদের মনে আনন্দ আগ্রহের সঞ্চার করলে নিজেকে পুরস্কৃত ভাগ্যবান বোধ PAT |

কলকাতা পরেশচন্দ্র দাশগুপ্ত শুভ ১লা বৈশাখ, ১৩৮৮

5 ভূমিকা a দ্বিতীয় সংস্করণ

সুদীর্ঘ ২৩ বছর পরে আমার পিতা 'পরেশচন্দ্র দাশগুপ্ত মহাশয়ের “প্রাগৈতিহাসিক বাঙলা” পুস্তকটি পুনঃ প্রকাশিত হচ্ছে প্রকাশক শ্রী দ্বিজদাস কর এইজন্য আমার কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছেন।

আর্কিওলজিকাল সার্ভে অবইন্ডিয়ার “কলকাতা চক্রে”-র (পূর্বতন পূর্বচক্র) প্রধান ডঃ বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরলস অনুপ্রেরণা সহায়তা ছাড়া এই পুস্তকটি কোনও দিনই আর বার হত না। দুই নবীন পুরাতত্তববিদ্‌ নৃতাত্বিক ডঃ কৌশিক গঙ্গে পাধ্যায় ডঃ শুচিম্মিতা সেনচৌধুরী নানাভাবে, নানাসময়ে নিজেদের মুল্যবান সময় এবং শ্রম খরচ করে আমাকে সাহায্য করে গেছেন।

আর সহয়তা পেয়েছি সকল সহকর্মীদের কাছ থেকে নিরলস, আপ্রাণ স্বার্থহীন। যেমন তিন Assistant Superintending Archaoelogist শ্রী তপনজ্যোতি চক্রবর্তী, শ্রী aay মাইতি শ্রী সমর ঘোষালের কাছ থেকে__ Draughtsman শ্রী পূর্ণেন্দু বিশ্বাসও আছেন। শুধু তাই নয়, বাবার প্রকাশিত অপ্রকাশিত বিপুলকায়, সমুদ্রপ্রমাণ রচনাবলীর যে সম্ভার আজ অনেকটাই WANT বিস্মৃত এবং লুপ্ত, হয়তো বা ধ্বংসপ্রাপ্ত/বিনষ্ট। তার যেটুকু ""Herodotus-43 পান্ডুলিপি”-র মত উদ্ধার করা গিয়েছে যেমন ০৭.০২.১৯৭০ সালের অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি “পুরুলিয়া জেলার পুরাকীর্তি”__ সেইসব যাতে প্রকাশিত হয় সেদিকেও তারা আগ্রহী, বিশেষ করে বিভাগীয় প্রধান ডঃ বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রকৃত সন্তানের ভূমিকা এনারাই পালন করেছেন এবং করছেন। অতীব ACH

১৬ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা

বাবা তার সংক্ষিপ্ত জীবনে পূর্বভারতের পুরাতত্ত্চর্চাকে যে আর্ন্তজাতিক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই ধারাবাহিকতা এনারাই রাখবেন (যখন সর্বপ্রকার “পড়াশোনা” অস্তমিত কলকতার তথা বঙ্গের গ্রস্থাগারিকরা একেবারেই জানেন না IDL কাকে বলে তা সুখে থাকুন তারা। বাবার লেখা মাত্রই ১৯৬০ (C.U) সালের JDL- যোগাড় করতে পুরো একবছর লেগে গেল। তার সহকর্মী শ্রী সুধীনকুমার দে যোগাড় করে না দিলে কিছু করবার ছিল না)। ধন্যবাদ দুই সুপ্রাচীন বন্ধু বর্তমানে ভারত সরকারের শিক্ষা দপ্তরের দুই মৃখ্যসচিব শ্রী জহর সরকার শ্রী পল্লব গোস্বামীকে, প্রায় বার দশক ধরে এনারা বাবার গুণমুগ্ধ, তিনি ২২ বছর আগে মারা গেলেও, এটি বিরল ঘটনা | বন্ধুবর শ্রী তরুন পাইন শ্রী ইন্দ্রজিৎ চৌধুরী, বাবার ছাত্র অধ্যাপক ডঃ সমীর কুমার মুখোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের YASS বিভাগের অধীক্ষক ডঃ গৌতম সেনগুপ্ত, গবেষক শ্রী যজ্ঞেশ্বর চৌধুরী, অধ্যাপিকা ডঃ দুর্গা বসু, ডঃ সুদীপা বন্দ্যোপাধ্যায়, ডঃ বিষ্ণুপ্রিয়া বসাক, ডঃ সোমনাথ চক্রবতী এবং আমার “মৃতভাষা, মৃতলিপি”-র শিক্ষক ডঃ সত্যরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় নানা সময়ে নানাভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন করবেন বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সাড়ে ছয় হাজার রচনাবলীকে এক করা ২২ বছর পরেও লেখাপড়া যখন অস্তমিত, (উদাহরণ দিয়েছি) কম কথা নয়।

পত্রী শ্রীমতী আনন্দময়ী দাশগুপ্তা এবং অবশ্যই মাতা সবসময়েই পাশে আছেন এই বিশাল কর্মকান্ডে। তবে এটা স্বীকার করতেই হয় যে বিভাগীয় প্রধান এবং প্রকৃতার্থে সুপন্ডিত ডঃ বিমল বন্দ্যোপাধ্যায় সক্রিয়ভাবে আমাকে সাহায্য (এবং সর্বপ্রকারে) সহয়তা না করলে কোনও কিছুই কখনও প্রকাশিত হত না। এই পুস্তকটি দিয়ে শুরু এবং উপরোল্লিখিত প্রকাশিতব্য বিশাল Corpus প্রকাশ হবেও «Tt, দ্বিতীয় সংস্করণটি আমি তাকেই উৎসর্গ করলাম শ্রদ্ধাভরে |

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজা, ১৪১০ দেবপ্রিয় দাশগুপ্ত

প্রথম অধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের ভূসংগঠন সভ্যতার আবির্ভাব

বাংলার ভূপ্রকৃতির আপন বৈশিষ্ট্যে সর্বদাই বিজ্ঞানীদের স্বতঃস্ফূর্ত কৌতৃহলের বিষয়বস্ত। স্মরণাতীত কাল থেকে এই দেশের ভৌগোলিক তথা ভূতত্তবীয় রূপ এশিয়ার ইতিবৃত্তে রচনা করেছে তার নিজস্ব দিগস্ত। নবীন প্রাচীন পাললিক সমাবেশ, TPCT, বালুকাপ্রস্তর আগ্নেয় শিলার উপস্থিতি অথবা প্রসারণ এবং অপরাপর পাষাণ পিণ্ড কিংবা স্তরের সাহচর্য সমগ্র ভূচিত্রকে তাৎপর্যময় করে তুলেছে। এক কথায় সমগ্র বাংলার ভূপ্রকৃতি ভূতত্ব এমন সব অতীত আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট নিসর্গ বৈচিত্র্যের পরম্পরার সাক্ষ্য দেয় যা বিলুপ্ত প্রাণীজীবনসমূহের প্রসঙ্গে একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদেশের নদী এবং ক্রোতস্বতীসমূহের গতিপথ যে এক সুপ্রাচীন জনজীবনের উত্তরণকে উদ্বুদ্ধ করেছে তাতে সন্দেহ নেই। যেসব জলধারা আজও প্রবহমান তাদের গুরুত্ব যেমন প্রশ্নাতীত তেমন যেসব SSAA আজ SAS প্রান্তরে মিশে গেছে কিংবা মরুসদৃশ কঙ্করাকীর্ণ উপত্যকায় হারিয়ে গেছে গোত্রহীন গিরিখাতের রূপ নিয়ে তাদের তাৎপর্য কখনো বা সঞ্চিত আছে অতীতের নিভৃত গহনে। দৃষ্টি-গ্রাহ্য নিসর্গ পরিবেশের অন্তরালে নিহিত আছে বিভিন্ন ইতিহাসের কথা, প্রস্তরযুগের কাহিনী হারানো সভ্যতার নিদর্শনাবলী।

আজ যেখানে দিগস্তপ্রসারী পার্বত্য প্রান্তর কিংবা পাথর বালুকামিশ্রিত অরণ্যাঞ্চল অথবা অনাবৃত ভূমি সেইসব অঞ্চলেই একদা গুরঞ্জরিত হয়েছে বিবর্তনপথে পর্যটনশীল মানুষের জীবনকাহিনী। এইসব উত্থান-পতন মুক্তাঙ্গন বিশ্রামস্থল অথবা অধিবসতি রচনার পশ্চাতে রয়েছে প্রাচীন আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল প্রকৃতি। স্বভাবতই পুরাতত্তে “পেলিয়োক্লাইমেটোলজি'র গুরুত্ব যথাযথভাবে স্বীকৃত। এই বিষয়টির সঙ্গে

প্রাগৈতিহাসিক

১৮ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা

বিজড়িত ভূত্তরসংলগ্ন জীব-জীবনের উপস্থিতির প্রসঙ্গ | “বায়োষ্ট্যাটি গ্রাফি' বিষয়ক এই সমীক্ষা, “পলিয়োক্লাইমেটোলজি' সংক্রান্ত গবেষণার সহায়ক! প্রস্তরীভূত অস্থি, দাত ইত্যাদির মাধ্যমে অতীত পর্বসমূহে জীবিত প্রাণীকুলের পরিচয়-নির্ণয় দ্বারা অবহিত হওয়া যায় সংশ্লিষ্ট আবহাওয়াকে। এইভাবে হাতী, সিংহ, হায়না, ঘোড়া, শুকর, মহিষ অন্যান্য গবাদি পশু, হরিণ, জিরাফ, Pala, কচ্ছপ ইত্যাদির জীবাশ্ম তথা শিলীভূত দেহাবশেষ প্রমাণ করতে সক্ষম জলবায়ুর বিভিন্ন প্রকৃতি প্রাসঙ্গিক জীবনবৃত্তের কাহিনী। প্রকৃতির সঙ্গে প্রাণীজীবনের সামঞ্জস্য বিধান সম্পর্কেই নিহিত আছে আবহাওয়ার ইতিহাস পরিবেশতত্ত তথা ইকোলজি'র মূল কাহিনী।

সভ্যতার বিবর্তন-প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক SOSA মূল্যায়ন উল্লিখিত অপরাপর বিশ্লেষণের উপর নির্ভরশীল সম্মিলিত বঙ্গের ভূসংগঠন প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এই ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই দেশের সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল সমুদ্রের তটসংলগ্ন। অরণ্য, ভগ্ন উপকূল, দ্বীপমণ্ডলী বালুকার আবরণ এই তটরেখাকে বৈচিত্র্য দান করেছে। এই বালুকাস্তীর্ণ অথবা আরণ্যক ছ্বীপময় বঙ্গোপকুলের ইতিহাস যে আজও বহুলাংশে অনাবিষ্তৃত, সন্দেহ নেই। বিভিন্ন তথ্যাদির দ্বারা সহজেই প্রতীয়মান হয় যে নিন্ন-গাঙ্গেয় উপত্যকা তথা সমুদ্র তীরবর্তী আরণ্যক কিংবা দ্বীপময় অঞ্চলের ইতিহাস এক সুপ্রাচীন কাল পর্যন্ত প্রসারিত। বিপুল পাললিক সমাবেশ কিংবা লবণান্ধু আর্রতার প্রভাব যে এখানে প্রচ্ছন্ন আছে অথবা বিনষ্টিকৃত হয়েছে এক প্রাচীন ভূপ্রকৃতি সে বিষয়ে সন্দেহ CAS | এই অতীত পরিবেশেই লালিত হয়েছে এক বিস্মৃত মানবগোষ্ঠী। এখানে GSS ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত সীমান্তে বিকীর্ণ হয়েছে সভ্যতার প্রথম আলোকরশ্মি। ব্রমান্বয় পুরাতাত্তিক অনুসন্ধানের ফলে আজ যে চিত্রটি আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে তার দ্বারা বিভিন্ন বিপ্রবাত্মক ধারণা প্রতিষ্ঠিত সত্যের মর্যদা লাভ করতে WHI | বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পিত অভিযান, উৎখনন পর্যবেক্ষণের দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েছে তাৎপর্যময় তথ্যাদি যা ইতিহাস রচনার অপরিহার্য উপাদান। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে নিশ্ন-গাঙ্গেয় উপত্যকার গুরুত্ব যেমন অসাধারণ তেমন আকর্ষণীয় পশ্চিম বাংলার পুরাতন পাললিক সংগঠন প্রস্তরাকীর্ণ প্রান্তরভূমি। মেদিনীপুর, বীকুড়া, বর্ধমান, বীরভূম এবং পুরুলিয়ার উষর বনাঞ্চল পার্বত্য ভূমি যে দূর অতীতে মানবসংস্কৃতির লীলাভূমি ছিল সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

ছোটনাগপুর, মালভূমি সংশ্লিষ্ট উচ্চ ভূখণ্ডের অংশ প্রতিবেশী অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ভূভাগ। এখানে এক দিকে যেমন দেখা যায়

পশ্চিমবঙ্গের ভূসংগঠন সভ্যতার আবির্ভাব ১৯

প্রাগৈতিহাসিক পর্বতমালার জীর্ণ ক্ষয়প্রাপ্ত দেহ তেমনি এখানে ছড়িয়ে আছে ক্রমাৰয় বৃষ্টিপাত আর্দ্রতার চিহ্ন মাকড়া তথা ল্যাটেরাইটের সংগঠন | উল্লিখিত মাকড়া কখনও প্রাথমিক (প্রাইমারী) এবং কখনও বা দ্বিতীয় পর্যায়ের (সেকেন্ডারী)। নৈসর্গিক বিধি অনুসারে FAA থেকে অপসারিত হয়ে অপর স্থানে সঞ্চিত ল্যাটেরাইটই এই দ্বিতীয় পর্যায়ের অবস্থিতি। রাজ্যের নদনদীগুলিও স্বভাবতঃই এই ভূখণ্ডের বৈশিষ্ট্যজ্ঞাপক। সুবর্ণরেখা, শিলাবতী, কংসাবতী, রূপনারায়ণ, দ্বারকেশ্বর, জয়পাণ্ডা, দামোদর, অজয়, কুনূর, ব্রাহ্মাণী, ময়ুরাক্ষী ইত্যাদির ESA এক প্রাচীন ভূসংগঠনের উপর ছড়িয়ে আছে ছিন্নমাল্যের মত স্থানীয় ভূবৃত্তের ক্রমঃবিলীয়মান ঢালসমূহকে অনুসরণ করে সমতলের অভিমুখে | বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই শ্নোতধারাগুলির গতি পশ্চিম থেকে পূর্বে এবং অবশেষে দক্ষিণ দিকে প্রসারিত। রাজ্যের ভূসংগঠন, প্রাকৃতিক বারিচরিত্র (হোইড্রোগ্রাফি), আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য, অরণ্যের সমাবেশ ইত্যাদি প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই এদেশের মানবজীবনকে প্রভাবিত করে এসেছে। এছাড়া নি্ন-হিমালয়ের অনুন্নত উপত্যকাগুলি এবং তরঙ্গিত বঙ্গোপসাগরও সুপ্রাচীন পর্ব থেকেই বাংলার সভ্যতাকে দান করেছে তার নিজস্ব বৈচিত্র। এই সমগ্র ভূভাগের মধ্যে পশ্চিমের শৈলাঞ্চল প্রাচীন পাললিক ভূমি সংগঠনের গুরুত্বই বারংবার অনুভূত ZA | উত্তরে হিমালয়ের উপস্থিতিও বাংলার পুরা ইতিহাসকে আরও বৈশিষ্ট্যময় করে তুলেছে।

ভৌগোলিক তথা GOS দৃষ্টি-ভঙ্গিতে পশ্চিম বাংলার পাহাড় এবং কঙ্করময় প্রান্তর উপত্যকাগুলির নিজস্ব রূপের পশ্চাতে আছে এক সুদীর্ঘ ইতিহাস যার আখ্যানমালা ছড়িয়ে আছে নানা নিদর্শনের মাধ্যমে স্থানীয় পরিমণ্ডলে এবং সন্নিহিত অঞ্চলগুলির গভীরে। প্রায় ৮৬০ পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে ৮৮ পূর্ব-দ্রাঘিমা পর্যন্ত প্রসারিত অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ এই ভূবৈচিত্র। এখানে সমতল বাংলার চিত্র পরিবর্তিত এবং প্রকাশিত এক প্রাচীন পরিমণ্ডলের ভাবমূর্তি। এর প্রতিষ্ঠার কাল ব্যাপ্ত এক সুদূর অতীতে স্থানবিশেষে আরকেয়ান অথবা আদি গোণ্ডোয়ানা (পারমিয়ান) পর্বে এবং এর দিগন্ত তার নিজস্ব বর্ণপ্রভায় উজ্জ্বল টারসিয়ারি কোয়াটের্নারি যুগের নিকটতর অধ্যায়সমূহে। কোয়াটের্নারি যুগের অন্তর্গত প্লাইস্টোসীন পর্বেই দেখা যায় মানুষের চিত্তাকর্ষক বিবর্তন এবং সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ। অবশ্য সমগ্র জীবজীবনের ইতিবৃত্তে মানুষ তথা “হোমিনিডে”র যখন অভ্যুদয় হয় অনেকটা মর্কটজাতীয় অস্ট্রালোপিথেসীনের।

পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন স্থানে প্লাইস্টোসীন যুগের ভূসংগঠনের উপস্থিতি যে এক বিস্তৃততর গবেষণার বিষয় সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। এই সংগঠনের অসাধারণ

30 প্রাগৈতিহাসিক বাংলা

গুরুত্ব একটি দৃষ্টান্তের দ্বারাই উপলব্ধি করা যাবে। বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত শুশুনিয়া পাহাড়ের চারপাশে প্রসারিত এইরকম এক প্রস্তরাকীর্ণ সমাবেশেই আবিষ্কৃত হয়েছে আদি প্রত্বাম্মীয় কালের (লোয়ার পেলিওলিথিক) অসংখ্য হাতিয়ার এবং কোয়াের্নারির প্রাচীন অধ্যায়ে বিচরণশীল প্রাণীকুলের প্রস্তরীভূত PEA | কতকটা তুলনীয় পরিস্থিতিকে দেখা গেছে মেদিনীপুর জেলার সুবর্ণরেখার দক্ষিণে প্রসারিত প্রস্তরাকীর্ণ ভূখণ্ডে প্রকৃতপক্ষে, প্লাইস্টোসীন কালের একটি বিশিষ্ট সমাবেশ স্তর ছড়িয়ে আছে মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বীকুড়া, বর্ধমান বীরভূম জেলায়। চব্বিশ-পরগণার একটি স্থানের ভূগর্ভে প্লাইস্টোসীন যুগের কোন এক তুলনীয় স্তরের উপস্থিতি অনুমান করা যায় আবিষ্কৃত নানা নিদর্শনাবলীর ভিত্তিতে। আবিষ্কৃত এই দৃষ্টাত্তগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য চার্ট, Bo চ্যাল্সেডোনি জাতীয় বিভিন্ন প্রস্তরপিণ্ড এবং শেষ প্রত্বাশ্মীয় (আপার পেলিওলিথিক) কালের অসংখ্য স্বল্পায়তন হাতিয়ার। আপাতদৃষ্টিতে চব্বিশ-পরগণার সংগঠন নবীন অনুভূত হলেও এই জেলার বিভিন্ন স্থানে আদি-এতিহাসিক প্রাগৈতিহাসিক কালের বিভিন্ন নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে। POG বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষা, মানচিত্রসমূহের সুক্ষ্ম বিচার এবং প্রত্বতত্তবীয় অভিযান আবিষ্টিয়ার দ্বারাই এই জেলায় অতিবাহিত ইতিহাসপূর্ব কালের চিত্রটি স্পষ্টতর হতে NTA | চব্বিশ-পরগণা মেদিনীপুর জেলাদ্ধয়ের তথা সমগ্র অবিভক্ত বঙ্গের তটরেখার ভূপ্রকৃতি নির্ণয়ে Gos ‘ইউস্ট্যাসি’ সম্পর্কিত ঘটনাবলীর গুরুত্ব অনুভব করা যায়। এই ঘটনাক্ৰম প্রাচীন সমুদ্র-তটসমূহের অবস্থান নির্ণয় প্রসঙ্গে সবিশেষ তাৎপর্যময়।

বিজ্ঞানীরা প্রমাণিত করেছেন, বিগত প্রায় দশ হাজার বছর থেকে দশ লক্ষ (মতান্তরে ছয় লক্ষ) বছর পর্যন্ত প্রসারিত প্লাইস্টোসীন মহাপর্বে উত্তর গোলার্ধে চারবার হিমপ্রবাহ সম্প্রসারিত হয়। দক্ষিণ গোলার্ধেও সক্রিয় হয় অনুরূপ শৈত। এর ফলে সমুদ্রজলের সামগ্রিক পরিমাণ লঘুতর হয় এবং তটরেখাগুলি উন্নীত হয় যথাযথভাবে। বারবার বহু সহস্র বৎসর ব্যাপী যুগসমূহে সমুদ্রপৃষ্ঠের এই অবনমন উত্থান ভূবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু |

ইয়োরোপ মহাদেশে যে চারটি তুষারযুগের পরিচয় পাওয়া যায় মোটামুটিভাবে তা সমগ্র পৃথিবীর নিসর্গচিত্রকে প্রভাবিত করে। বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, গুন্জ্‌, মিণ্ডেল, রিস্‌ ভ্যর্ম এই পর্বতসমূহে পৃথিবীর উত্তরাংশ বরফাবৃত হবার ফলে এবং অন্তর্বতী উষ্ণ অধ্যায়গুলিতে সঞ্চিত তুষার রাশি দ্রবীভূত হবার জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠ অবনমিত উত্থিত হয় যথাক্রমে প্রায় ১৫০ মিটার এবং ২০০ মিটার

পশ্চিমবঙ্গের ভূসংগঠন সভ্যতার আবির্ভাব ২১

পৰ্যন্ত | এই “গ্লেসীয়ো-ইউস্ট্যাটিক' প্রভাবের ফল বঙ্গোপসাগরের তটরেখায় কতখানি পরিব্যাপ্ত হয়েছিল তা অবশ্যই নির্ণয়যোগ্য। নিম্ন-গাঙ্গেয় উপত্যকা, বিশেষতঃ সুন্দরবনের ভূগর্ভে নিহিত অতীতের সংগঠনগুলির প্রকৃত মূল্যায়নের উপর নির্ভরশীল বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক পুরাতাত্তিক সিদ্ধান্ত | গাঙ্গেয় “ব দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ফারাক্কা তার সন্নিহিত অঞ্চল। রাজমহল শৈলমালার সমীপে প্রসারিত প্রান্তরভূমির ইতিহাস যে সুপ্রাচীন তা সন্দেহাতীত। মুর্শিদাবাদ জেলার সীমাস্তভূমিতে অবস্থিত ফারাক্কার পুরাতাত্তিক সম্পদ তাৎপর্যময়। রাজমহলের সমুন্নত পাহাড় এবং সদাপ্রবাহিত গঙ্গার মধ্যবর্তী অঞ্চল স্বভাবতঃই এক ব্যাপক প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের উপযোগী | এখানে উল্লেখ্য ময়ুরাক্ষী, দ্বারকা, ব্রাহ্মণী, বাসলোই গুমানীর উৎসস্থল রাজ্যের সীমাস্তপারে প্রসারিত রাজমহল পর্বতমালার পরিমণ্ডলে |

আগ্নেয় শিলায় গঠিত রাজমহল পর্বতমালা সুপ্রাটানকাল থেকেই বাংলার ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে। ইয়োরোপের সুপরিচিত আল্পস্, পিরেনিজ শেভিয়ট পর্বতমালার মত রাজমহল গিরিশ্রেণীর ভূমিকাও তাৎপর্যময় অবিভক্ত বাংলার পূর্ব- সীমান্তের শৈলাঞ্চলও বৈশিষ্ট্য পূর্ণ | পার্বত্য চট্টগ্রাম, ত্রিপুরা এবং গারো পাহাড় তার সন্নিহিত সুবিস্তৃত মধুপুর অরণ্যের SOS ইতিবৃত্তও AGIS? রচনা করেছে এক সুপ্রাচীন যুগের পটভূমিকা। টারসিয়ারি পর্বের বালুকাপ্রস্তর (স্যান্ডস্টোন) এবং কর্দমপ্রস্তর (শেল) গঠিত চট্টগ্রাম এবং ত্রিপুরার পাহাড়গুলি সৃষ্টি করেছে প্রাগৈতিহাসিক মানবজীবনের অনুকূল একটি নিজস্ব পরিবেশ চট্টগ্রামে এবং সীমান্তপারে অসম রাজ্যে অবস্থিত কাছার জেলায় আবিষ্কৃত হয়েছে নবাশ্মীয় সংস্কৃতির অমূল্য নিদর্শনাদি। এইসব আবিক্ক্রিয়ার পারস্পরিক গুরুত্ব যথাস্থানে আলোচিত XA |

কাছার জেলায় অবস্থিত দেওজালি হাদিং-এ প্রাপ্ত নবাশ্মীয় দৃষ্টান্তসমূহের অনন্য তাৎপর্য পার্বত্য ত্রিপুরার প্রাগৈতিহাসিক দিশত্তকে সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। তুলনীয় কারণে মধুপুর অরণ্য তার সন্নিহিত ভূমির গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। অসমের অন্তর্গত গারো পাহাড়ের পরিমণ্ডলে থেব্রংগিরিতে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রস্তরযুগের বিভিন্ন নিদর্শন। প্রকৃতপক্ষে, সমগ্র বাংলার বিভিন্ন স্থানে সুপ্রাচীন কালের SWAG নানা সমাবেশ দেখা যায়। সমগ্র দেশের উত্তরাঞ্চলে পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রসারিত বারিন্দের লাল মাটি পুরাতন পাললিক সমাবেশেরই পরিচায়ক। বারিন্দ মধুপুরের বন দুইয়েরই প্রাচীন পাললিক ভূমি আবহাওয়ার সংস্পর্শ জনিত কারণে রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। পশ্চিমাঞ্চলে যে পরিস্থিতিতে মাকড়া তথা ল্যাটেরাইটের সৃজন এখানে সেই একই নিয়মে মাটির রং লাল। বিভিন্ন প্রকারের এইসব FORA প্রেক্ষাপটেই বিচার্য প্রাচীন সভ্যতার DANA |

২২ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা

সমগ্র গাঙ্গেয় T দ্বীপের গুরুত্ব আরও বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষার বিষয়বস্তু৷ সুবিস্তৃত নদীগুলি কীর্তিনাশা হলেও স্থানে স্থানে আবিষ্কৃত হতে পারে সুপ্রাচীন নানা অধিবসতির চিহ্নরাশি।

পশ্চিম বাংলার নিসর্গ-চিত্রকে এক অসাধারণ সৌন্দর্য গৌরব দান করেছে হিমালয়ের বিপুল পর্বতশ্রেণী। তরাইয়ের গভীর অরণ্য, বর্ষায় উচু থেকে নেমে আসা উদ্দাম জলপ্রবাহশ্রেণী, নিন্ন-হিমালয়ের শিবালিক গোত্রীয় নবীন পর্বতশ্রেণী এবং দুরতিক্রম্য শৃঙ্গগুলি সব মিলে সৃষ্টি করেছে এক অসাধারণ পরিবেশ। “সাব-মন্টেন' গিরিশ্রেণী অথবা সাব-হিমালয়ান fers অবয়বের বহিরাংশে উত্তরে মূলতঃ পরিচয় পাওয়া যায় কোমল অপেক্ষাকৃত দৃঢ় বালুকাপ্রস্তর (স্যান্ডস্টোন) এবং “কোয়ার্টজাইট” ‘শেল’ কয়লার। এর উর্ধে হিমালয়ের সংগঠনে আছে GAD, ফিলাইট এবং “ডালিং সিরিজ'-এর কোয়ার্টজাইট প্রস্তর | আরও উঁচুতে পর্যবেক্ষিত হয় সুকঠিন “নাইসীয়' (gneissic) পাষাণপুঞ্জ এবং VATA স্তর (মাইকা শিস্ট) ভূতাত্তিকদের অনুমান, হিমালয়ের গভীরে তামা, লোহা, গ্র্যাফাইট কয়লার বিপুল খনিজ অবস্থিতি আবিষ্কৃত হতে পারে।

এখানে উল্লেখ্য যে পার্বত্য দার্জিলিং-এ ইতিপূর্বে লক্ষ্য করা গেছে বিগত যুগে ব্যবহৃত তাত্রখনির অবস্থিতি। উত্তঙ্গ পর্বতপৃষ্ঠে আকরিক তান্রের উপস্থিতি একদা মানব-সভ্যতার উত্তরণে সহায়ক ছিল সন্দেহ নেই। হিমালয়ের সানুদেশে বিস্তৃত আদিম অরণ্য এখনও স্থানে স্থানে নিজের প্রাচীন বৈশিষ্ট্যকে বজায় রেখেছে। এই বনের নিবিড়তা ছায়াচ্ছন্ন অন্তর্লোক সৃষ্টি বরবে পুরাতাত্তিকের কৌতৃহল। পাহাড়ের সমীপে কিংবা অনেক উর্ধে জনহীন চত্বরে কিংবা চুড়ায় জটা-জটিল মহীরুহ নানা তরুলতার গহনে আবিষ্কৃত হয়েছে অতীতের বিভিন্ন রহস্যময় সৌধ কীর্তি। হিমালয়ের সান্নিধ্য জলপাইগুড়ি জেলা কোচবিহারকে এমন এক বৈশিষ্ট্য দান করেছে যার গুরুত্ব অসাধারণ। এই সামীপ্য অনুভূত হবে আরও দক্ষিণাঞ্চলের ইতিহাসেও | হিমালয়ের উপত্যকাসমূহ থেকে আগত মহানন্দা, করতোয়া, তিস্তা, জলঢাকা, তোরসা, কালজনী, গদাধর, চিনচু, সঙ্কোশ ইত্যাদি নদী স্রোতস্বতীগুলি বহু শতাব্দী ধরে সংযুক্ত করেছে সমতল বাংলাকে উত্তরের বিপুল পর্বতমালার সঙ্গে এগুলির মধ্যে তিস্তার পথটিই ছিল তিব্বতের তুষারাবৃত মালভূমির সঙ্গে প্রধান সংযোগরক্ষাকারী। ক্রমানবয় পর্বগুলিতে এই স্নোতপথসমূহই আহ্বান করেছে যোদ্ধা, অভিযাত্রী, সার্থবাহ তীর্থকামীদের। বাংলার ভৌগোলিক সত্তা GOS ইতিবৃত্ত প্রায়শই পরিচয় বহন করে দূর অতীতের | ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সুপ্রাচীন আরকেয়ান পর্ব থেকে শুরু করে প্লাইস্টোসীন যুগ পর্যস্ত প্রসারিত

পশ্চিমবঙ্গের ভূসংগঠন সভ্যতার আবির্ভাব ২৩

এদেশের পার্বত্যভূমি এবং অসমতল প্রস্তরাকীর্ণ উপত্যকার SAA গাঙ্গেয়‘ব’ দ্বীপ যা আপাতদৃষ্টিতে নবীন তারও ইতিহাস রহস্যময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেখানেও রয়েছে SNA স্পর্শ।

একদা বহু হাজার বছর আগে পশ্চিম বাংলার পশ্চিমাঞ্চলে এখনকার নানা উষর উপত্যকায় অতীতের বিভিন্ন ক্ষয় প্রাপ্ত পাহাড় টিলার চারপাশে এক বিলুপ্ত অরণ্য প্রাণীকুলের মাঝখানে যে মানুষের প্রথম সংস্কৃতি বিকাশ লাভ করেছিল সে বিষয়ে তথ্য-প্রমাণাদির অভাব নেই | PATA আবিষ্কারের পথ ধরে বিজ্ঞানীর প্রচেষ্টা প্রাগৈতিহাসিক বাংলার চিত্রটিকে নিঃসন্দেহে পূর্ণ তর PACA |

দ্বিতীয় অধ্যায় মানুষের বিবর্তন প্রস্তর যুগের প্রারস্ত

মানুষের বিবর্তন পথে যা সমাত্তরালভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায় তা হল তার সাংস্কৃতিক উত্তরণ। এই অগ্রগতির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে, এক দীর্ঘ আদিম পর্বের অবসানে, পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই পরিচয় পাওয়া যায় এক তুলনীয় মানসিকতার যদিও এখনও প্রধান লক্ষ্য খাদ্যসংগ্রহ তবুও মানুষের জীবনে উন্মেষিত হয়েছে তার ভবিষ্যত প্রতিভার প্রথম পুষ্পগুচ্ছ। প্রত্বাশ্মীয় দিগন্তেই প্রথম দেখা যায় মানুষের সৌন্দর্যবোধ, সমষ্টি-চেতনা এবং কারিগরি প্রতিভা। এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইয়োরোপে সর্বত্রই মানব- সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারাবাহিক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয় স্ব স্ব পরিবেশে এক-একটি তাৎপর্যময় নিসর্গ বৈচিত্র্ে। প্রাচীন পর্বতমালার পরিবেশে কিংবা অতীতের নদী উপত্যকায় তটচত্বরে একদা সৃজিত হয়েছে মানুষের প্রথম হাতিয়ার এবং স্থাপিত হয়েছে সভ্যতার ভিত্তিপ্রস্তর। সামগ্রিক বিচারে এই কাহিনীর মূল দিগন্ত প্লাইস্টোসীন কাল এবং এর প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছে পূর্বতন প্লায়োসীন পর্বে বহু লক্ষ বছর আগে। এই প্রসঙ্গে জীব-জগতে মানুষের অভ্যুদয় এবং তার সাংস্কৃতিক বিবর্তন সম্বন্ধে কিছুটা আলোচনার প্রয়োজন

এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গে অতিবাহিত প্লাইস্টোসীন পর্বের ইতিহাসকে বিবেচনা করা সম্ভব হবে। পৃথিবীর প্রত্বাশ্মীয় ইতিবৃত্তে এই রাজ্যের কাহিনীও প্রকাশিত করে একটি সমাত্তরাল তাৎপর্য। এখানেও যথানিয়মে পর্যবেক্ষিত হবে জীবন-সংগ্রামে পরিবেশের গুরুত্ব এবং পাথরে তৈরী হাতিয়ারসমূহের সুপরিচিত আকৃতি নির্মাণশৈলী। পৃথিবীতে মানুষের বিবর্তন প্রসঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, প্রাচীনতম কাল থেকে তাকে কেমন করে চেনা যাবে, তার কোন্‌ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য? এখানে বিজ্ঞানীরা

মানুষের বিবর্তন প্রস্তর যুগের প্রারস্ত ২৫

নানা যুক্তির অবতারণা করে থাকেন। মনে করা হয়, মানুষের মূল চরিত্র তার মানবিকতা ধ্যান-ধারণা | মর্কটগোত্রীয় বৃক্ষচারীদের থেকে আলাদা হয়ে তারা কেমন করে প্রথমে একাত্ত খাদ্যান্বেবী এবং বিচরণরত হয়ে কালাতিপাত করে এবং দীর্ঘ বিবর্তনের পর ক্রমে শিল্প, অস্ত্যেষ্টিরীতি, কৃষি পশুপালনে আত্মনিয়োগ করে তা পুরাতত্ত বিজ্ঞানের একটি অন্যতম অধ্যায়।

মানুষের প্রধান পরিচয় তার হৃদয়বেত্তা মননশীলতা। কোনো বস্তুকে আয়ুধরূপে ব্যবহার করার মধ্যেই এই পরিচয় নিবদ্ধ TA | আচরণে বুদ্ধির প্রতিফলনও স্বভাবতঃই মানবতার একমাত্র অভিব্যক্তি হতে পারে না। অবশ্য মানুষ তার আদিমতম পর্যায়ে তার ভাবী মননশীলতার প্রাথমিক অস্পষ্ট গুণাবলীরই অধিকারী fier নৃ- বিজ্ঞানীর কাছে বিবর্তনশীল মানুষের একটি সামগ্রিক নাম “হোমিনিড" | এই নবীন জীবজীবনের প্রেক্ষাপট রচনা করেছে এক সুদীর্ঘ বিবর্তনকাহিনী যার এক পরিচয়যোগ্য সুত্রপাতকে চেনা যায় দেড় কোটি থেকে আড়াই কোটি বছর আগে জীবিত এক শ্রেণীর বনচারীর দেহসংগঠনে। এই বানরগোষ্ঠী যথানিয়মে গাছে উঠতে পারলেও মাটিতেও জীবননির্বাহ করতে পটু ছিল। এদের প্রস্তরীভূত কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়েছে এশিয়া, ইয়োরোপ এবং আফ্রিকায় | আফ্রিকার “সাভান্না" প্রান্তর অরণ্য যে একদা তাদের অনুকূল বাসভূমি ছিল তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভিক্টোরিয়া হৃদে অবস্থিত রুসিঙ্গা দ্বীপের প্রাগৈতিহাসিক ভূসংগঠনে এবং বিভিন্ন আগ্নেয়গিরির ঢালসমূহে পর্যবেক্ষিত তুলনীয় সমাবেশে আবিষ্কৃত হয়েছে মায়োসীন পর্বের বিভিন্ন ফল, বীজ এবং পতঙ্গের অমূল্য জীবাশ্ম |

এখানে উল্লেখ করা সঙ্গত যে মায়োসীন তৎপরবর্তী প্লায়োসীন যুগকে একত্রীভূতভাবে কায়নোজোইক যুগের অস্তর্গত শেষ টারসিয়ারি (আপার টারসিয়ারি) যুগ রূপেও বর্ণিত করা VA | সাধারণতঃ অনুমান করা হয়, এই সম্মিলিত অধ্যায় বিগত প্রায় দশ লক্ষ বছর থেকে সাড়ে ছয় কোটি বছর পর্যন্ত প্রসারিত। প্রকৃতপক্ষে, লেমুর অন্যান্য আদিম মর্কটগোষ্ঠীর দৈহিক ক্ষমতাকে অনেকাংশে অতিক্রম করে গেছে ড্রায়োপিথেকাস-এর উৎকর্ষ | এখনও উন্নত হয় নি এদের বাহুর ব্যবহার, তবু দেখা দেয় ভবিষ্যত মানবজীবনের ক্ষীণতম রশ্মিরেখা। মনে করা হয়, এরা এক রহস্যময় IET |

আজ থেকে প্রায় এক কোটি চল্লিশ লক্ষ বছর আগে অভ্যুত্থান হল আরও বিবর্তিত রূপ, রামাপিথেকাস। আকৃতিগতভাবে এরা মানুষের নিকটবর্তী এবং মনে

২৬ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা

করা যেতে পারে “হোমিনিড' গোষ্ঠীর দূরতম প্রারভ্তসূচক। রামাপিথেকাসের মুখ এবং দাতের প্রস্তরীভূত ভগ্ন নিদর্শনাদি আবিষ্কৃত হয়েছে ভারতে পূর্ব আফ্রিকায় | এদের অপর কোন কঙ্কাল, যা সমগ্র অবয়ব সম্বন্ধে ধারণা এনে দিতে পারে, আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয় নি। তবে এদৈর দাতের গঠন এবং বিন্যাসে যে বৈশিষ্ট্য দেখা যায় তা মূলতঃ মানবগোষ্ঠীর তুলনীয় রূপকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। এখানে একটি রহস্য স্বভাবতঃই বিজ্ঞানীদের আকর্ষণ করে, পরিচয়যোগ্য মানুষ তথা হোমিনিডের অভ্যুদয়-পর্ব সূচীত হয়েছে সম্মিলিত মায়োসীন-প্লায়োসীন পর্বের শেষ অধ্যায়ে |

বিজ্ঞানীদের সিদ্ধান্ত মেনে নিলে প্রাগেতিহাসিক মানুষ বানর তাদের মূল কাণ্ড থেকে দুইটি শাখায় বিচ্ছিন্ন হয় এক সুদূর অতীতে। চিকিৎসা-বিজ্ঞানের অন্তর্গত রোগসম্বন্ধশূন্যতা অথবা প্রতিরোধ সংক্রান্ত তথ্যাদির (ইম্যিউনোলজিকাল ডেটা’) উপর নির্ভর করে এই যুগসন্ধিক্ষণকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে প্রায় তিন কোটি বছর পূর্বে আফ্রিকায় আবিষ্কৃত তথ্যাদি এই সমস্যাকে সবিশেষ গুরুত্ব দান করেছে। বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী লিকি রুসিঙ্গা দ্বীপ এবং সোংঘোর-এর নিন্ন-প্লায়োসীন ভূবৃত্তে আবিষ্কার করেছেন শিবালিকে আবিষ্কৃত “রামাপিথেকাস বিকেরি*র সমগোত্রীয় “কেনিয়াপিথেকাস আফ্রিকানাস'-এর জীবাশ্ম। এর দ্বারা প্রমাণিত হবে, আজ থেকে প্রায় দু কোটি বছর আগে হোমিনিডের উপস্থিতি। এতৎসত্তেও প্রত্বুতত্ববিদ্‌ ডেসমণ্ ক্লার্ক অনুমান করেন, আদিমতম ‘মানব’ (হোমিনিড) এবং বানরের (পোংগিড') মধ্যে প্রথম প্রভেদ রচিত হয় প্লায়োসীন কালে এবং কোনো মতেই এক কোটি বছরের পূর্বে নয়। ব্রোমোসোম, সিরামের অন্তর্গত প্রোটিন, রক্তের লোহিত কণিকা এবং মানুষ বানরের আপেক্ষিক রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতা সম্বন্ধীয় আলোচনার উপর ভিত্তি করে ডেসমণ্ড ক্লার্ক এই মত প্রকাশ করেছেন। একটি ধারণা এখন প্রতিষ্ঠিত হলে চলেছে যে, রামাপিথেকাস- এর জীবনধারা অনেকটা এখনকার গোরিলা শিম্পাঞ্জীর মতো ছিল। তাকেও হাটতে হত হাতের গাঁটের উপর ভর দিয়ে। গোরিলা শিম্পাঞ্জীর ন্যায় তারাও থাকত বৃক্ষ- লতায় আচ্ছন বিস্তীর্ণ PACS | অনুমান করা হয়, এই প্রাচীন অরণ্য একদা প্রসারিত ছিল আফ্রিকা থেকে উত্তর ভারত পর্যস্ত। মোটামুটিভাবে রামাপিথেকাস এবং কেনিয়াপিথেকাসের পরিবেশ সম্ভবতঃ ছিল একই ধরনের 1 সে যুগে,অর্থাৎটারসিয়ারি পর্বের শেষার্ষে অনুকূল স্থলভাগ দিয়ে আফ্রিকা ইয়োরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন স্তন্যপায়ী মেরুদন্তী প্রাণীকুল ছড়িয়ে গেছে এমন প্রমাণ পাওয়া A |

এক তুলনীয় জীব-জগতের পরিচয় পাওয়া যায় পশ্চিম বাংলায় শুশুনিয়া পাহাড়ের চারপাশে বহুদূর পর্যস্ত প্রসারিত শিলাকীর্ণ ভূখণ্ডে। শুশুনিয়ায় আবিষ্কৃত

মানুষের বিবর্তন প্রস্তর যুগের প্রারস্ত ২৭

জীবাশ্মগুলির দিগন্ত অবশ্য আরও অনেক পরে, প্লাইস্টোসীন পর্বের শেষার্ধের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে যখন এতদঞ্চলের আর্দ্র পরিবেশ, দূর-ব্যাপ্ত তৃণভূমি অরণ্য হস্তী, বন্য ঘোড়া, হরিণ, সিংহ, জিরাফ ইত্যাদি পশুকুলের জীবনধারণের পক্ষে সহায়ক ছিল। পূর্ব আফ্রিকায় ভিক্টোরিয়া aora পূর্বে অবস্থিত ফোর্ট টের্নানে প্রাপ্ত তথ্যাদির উপর নির্ভর করে জানা যায় কেনিয়াপিথেকাস (ভারতের রামাপিথেকাস বিকেরির গোত্রীয়) মাংসভোজী ছিল এবং তারা হয়ত একটি সাধারণ প্রস্তরখগুকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার পক্ষপাতী ছিল। ফোর্ট টের্নানে একটি দীর্ঘ অস্থি এবং একটি ভগ্ন আগ্নেয় শিলা (লাভা)-কে এক সঙ্গে দেখা গেছে। হাড়ের গায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল FAIS | মনে হয় TRITT] কেনিয়াপিথেকাস গ্রহণ করেছে অস্থির মজ্জাকে। অবশ্য এক্ষেত্রে কোনো বস্তুকে হাতিয়ার রূপে ব্যবহার করলেই প্রমাণিত হবে না হোমিনিডের মৌল চরিত্র | এই হাতিয়ারে থাকা প্রয়োজন মননশীলতার HS, একটি সুনির্দিষ্ট নির্মাণ পদ্ধতি। বিশিষ্ট নৃ-বিজ্ঞানী ব্যর্নেস জেন ভ্যান MUST গুডাল বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণকার্য পরিচালনা BCAA | তানজানিয়ায় প্রবাহিত গোম্বে নদীর অরণ্যময় উপত্যকায় তিনি এবং তার সহযোগী বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন শিম্পাপ্জীদের আচরণ, তারা কেমন করে ব্যবহার করে পাথর, লতা, গাছের ডাল স্পঞ্জ | এই সব পর্যবেক্ষণের দ্বারা মায়োসীন এবং প্লায়োসীন পর্বে জীবিত ড্রায়োপিথেকাস রামাপিথেকাস কিংবা তুলনীয় আদিমানব অথবা বিতর্কিত নর-বানরদের সম্বন্ধে একটি চিত্র রচনা করা NET |

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, ইটালীর অন্তর্গত টাসকানি অঞ্চলের লিগনাইট বালুকা স্তরে আবিষ্কৃত হয়েছে এক শ্রেণীর বানরের প্রস্তরীভূত PFA | এই বানরকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ওরিওপিথেকাস। যে ভূত্তরে জীবাশ্মসমূহকে দেখা গেছে তাকে 'পন্টিয়ান” অধ্যায়ে প্রায় এক কোটি বছর আগে নির্দেশ করা হয়ে থাকে ।স্কভাবতঃই এই যুগটি মায়োসীন এবং প্লায়োসীনের সীমান্তে নির্দিষ্ট। ওরিওপিথেকাস বানর হলেও তার মুখাবয়বে হোমিনিডের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। নৃ-বিজ্ঞানী আযালান হাউটন ব্রোড্রিকের ধারণায় একদল বৃক্ষচারী ওরিওপিথেকাস হয়ত হোমিনিডের সঙ্গে কোনো সমান্তরাল বিবর্তন পথের সাক্ষ্য দেয়। তাদের দীর্ঘ IAA কোনোক্রমেই মানুষের পিতৃপুরুষের (SCRA) পরিচায়ক নয়।

বর্তমান ক্ষেত্রে আর-একটি নর-বানরের (কিংবা বানরের) প্রসঙ্গ উত্থাপিত হতে ATA | তার নাম দেওয়া হয়েছে জাইগান্টোপিথেকাস। এদের প্রস্তরীভূত দাত, চোয়াল ইত্যাদি সংগৃহীত হয়েছে দক্ষিণ চীনে অবস্থিত কোয়াংসি প্রদেশের গিরিগুহায় ANOTA | এদের দাতের বেড় আয়তন বৃহদাকৃতি হোমোসেপিয়েনস্‌ তথা ছয় ফুট

২৮ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা

উঁচু আধুনিক মানুষের দাতের চেয়েও আড়াই গুণ FG | জাইগানথোপাসের উচ্চতা তুলনীয় যুক্তিতে হয়ত পনের ফুট ছিল না, কিন্তু তার মাথা যে অন্তত খুব বড় ছিল বিষয়ে পণ্ডিতদের মতদ্বৈততা নেই। কোনিগস্ভলড্-এর মতবাদ বিশ্বাস করলে এরা ছিল একশ্রেণীর দৈত্যাকৃতি বানর। অপরপক্ষে, ওয়াইডেনরাইখ-এর সিদ্ধান্ত অনুসারে এরা ছিল বিপুল দেহ আদি-মানব (হোমিনিড)। এই বিবেচনায় জাইগান্টোপিথেকাসের স্বতন্ত্র নামকরণ হল জাইগান্ধোপাস। কোয়াংসি প্রদেশে অবস্থিত লেংঘাই পাহাড়ের সমুন্নত NAA এক গুহাতে আবিষ্কৃত হয়েছে এই শ্রেণীর কোনো অতিকায় প্রাণীর বারটি দাত সম্বলিত নীচের চোয়াল। এই জীবাশ্ম সম্ভবতঃ কোনো অল্পবয়সী কিংবা মধ্যবয়স্কা স্ত্রী জাইগান্টোপিথেকাস অথবা জাইগান্থোপাসের। কল্পনা করা যেতে পারে, এই মাংসভোজী প্রাণী দুরারোহ গিরিগাত্রে নিয়মিত বেয়ে উঠেছে পশু-মাংস নিয়ে যারও প্রস্তরীভূত হাড় আবিষ্কৃত হয়েছে লেংঘাইয়ের গুহায়।

এখানে স্মরণ করা যেতে পারে, জাইগান্টোপিথেকাস আবিষ্কারের চমকপ্রদ কাহিনী। ১৯৩৫ সালে হংকং শহরে নৃ-বিজ্ঞানী কোনিগস্ভলড্‌ সর্বপ্রথম ক্রয় করেন এমন একটি দাত যা দেখে তার মনে এক শ্রেণীর অতিকায় বানর সম্বন্ধে ধারণার উদয় ZA I এর পরেও স্থানীয় কয়েকটি ওষুধের দোকান থেকে এই নিরলস বিজ্ঞানী সংগ্রহ করেন আরও বিভিন্ন জীবাশ্ম | এই সংগ্রহের অন্তর্গত ছিল পিথেকানখ্রোপাস শ্রেণীর আদি-মানবের এবং জাইগোন্টোপিথেকাসের প্রস্তরীভূত MNS | শেষোক্ত গোষ্ঠীর কষের দীতগুলিই (মোলার) ছিল আয়তনগত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী | পর্যবেক্ষণাদির দ্বারা অনুমান করা যায়, যবদ্ীপের পিথেকানগ্রোপাসের সঙ্গে তুলনীয় কোয়াংসির পিথেকানথোপাস অপর দিকে জাইগান্টোপিথেকাস অথবা জাইগান্ধোপাস দুই-ই সমকালীন এবং এদের দিগন্ত চার-পাঁচ লক্ষ বছর আগে মধ্যপ্লাইস্টোসীন পর্বে পূর্ব এশিয়ার প্রাচীন ওরাং-উটানও সহাবস্থান করেছে একই সময়ে | সুতরাং, মনে হয় এখানেও বিবর্তন ছিল বিভিন্ন শ্লোতপথে প্রবাহিত। শাখাগুলি কখনো ভিন্নমুখী কখনো সমান্তরাল। আফ্রিকার গহন অরণ্য কিংবা তৃণভূমি, ইটালীর পার্বত্য প্রদেশ স্পেন, কোয়াংসির পাহাড় কিংবা ইন্দোনেশিয়া সর্বত্রই একটি তুলনীয় BSAA | ভারতের শিবালিক সংগঠনে এক প্রাচীন প্রেক্ষাপট রচনা করেছে বিভিন্ন রহস্যময় জীবাশ্ম যাদের নামকরণ হয়েছে রামাপিথেকাস, ব্রহ্মপিথেকাস, শিবাপিথেকাস, সুগ্রীবপিথেকাস BON | নর বানরের সীমান্তরেখা এখানে অনির্দিষ্ট অথবা বিতর্কিত। এদের দাতের বৈশিষ্ট্য এবং করোটির আকৃতিতে হোমিনিডের লক্ষণ দেখা গেলেও নৃ-বিজ্ঞানী আযালান হাউটন ব্রোড্রিক অনুমান করেন যে এই সাদৃশ্যের মূলে হয়ত আছে একই প্রাণীকুল থেকে প্রজাত ভিন্নমুখী

মানুষের বিবর্তন প্রস্তর যুগের প্রারস্ত ২৯

শাখাসমূহের অবয়বগত এঁকে প্রত্যাবর্তন (হোমোপ্লাস্টিককন্ভা্জেন্স) যা জীবজীবনের ইতিহাসে অজানা নয়। তবে বিজ্ঞানীবৃন্তে ব্রোড্রিকের এই মতটি গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। বর্তমান অধ্যায়ে উল্লেখ করা সঙ্গত ব্রন্মদেশের ইয়োসীন (Eocene) স্তরে আবিষ্কৃত এক শ্রেণীর আদিম বানরের প্রস্তরীভূত চোয়াল। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন 'আযাম্ফিপিথেকাস মোগন্জেন্সিস” (Amphipithecus Mogaungensis) |

মানুষের বিবর্তন পথের চিত্রটি স্পষ্টতর হয়ে ওঠে আফ্রিকার নিজস্ব পরিবেশে প্লায়োসীনের শুষ্ক আবহাওয়া যখন বিদায় নিল নবীন পর্ব প্লাইস্টোসীনের আগমনে। প্লাইস্টোসীনেরই আদিপর্বে আফ্রিকা মহাদেশে আবির্ভূত হয় নর-বানরের সুস্পষ্ট রূপ অস্্রালোপিথেসীন। ট্রান্দভালে ছড়ানো চুনাপাথরের গুহাসমূহে এবং তান্জানিয়ায় প্রবাহিত ওলদুভাই নদীর সুগভীর উপত্যকায় আবিষ্কৃত হয়েছে এই শ্রেণীর নর-বানরের CARE | এই সব গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্ত্রিয়ায় তিনজন বিজ্ঞানীর দান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এঁরা হলেন ডঃ (ANG ডার্ট, ডঃ রবার্ট Sa এবং ডঃ লুই লিকি। পরীক্ষার দ্বারা জানা যায়, অস্টালোপিথেসীন আধুনিক কালের বানরের সঙ্গে তুলনীয় হলেও তারা দু-পায়ে উঁচু হয়ে হাটতে সক্ষম ছিল এবং সৃজন ব্যবহার করতে পারত তাদের হাতিয়ার। প্রকৃতপক্ষে, এখন প্রারস্তিত হল মানুষের প্রস্তরযুগ তথা হাতিয়ার নির্মাণের পর্ব। দক্ষিণ আফ্রিকায় অক্টালোপিথেসীনের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে টাউং, মাকাপান, স্টার্কফন্টে স্যোয়াটক্রান্স এবং ক্রোমদ্রাই-এ আবিষ্কৃত জীবাশ্মসমূহের দ্বারা | এই স্থানগুলির মধ্যে প্রথম তিনটি জায়গায় প্রাপ্ত জীবাশ্মগুলি অপেক্ষাকৃত খর্বদেহ এবং হালকা আকৃতির অস্ট্রালোপিথেসীনদের। এদের নাম দেওয়া হয়েছে অক্ট্রালোপিথেকাস আফ্রিকানাস। অপরপক্ষে, চতুর্থ পঞ্চম স্থানদ্বয়ে পাওয়া গেছে এদেরই দীর্ঘ বলিষ্ঠাকৃতি জ্ঞাতিদের প্রস্তরীভূত PST | এই দ্বিতীয় গোষ্ঠীর নামকরণ হয়েছে প্যারানথোপাস (প্রায়-মানব') অথবা অক্টালোপিথেকাস রোবাস্টাস। এখানে স্মরণ করা যেতে পারে, আফ্রিকায় সাহারা অক্ট্রালোপিথেসীন গোত্রীয়। দেখা গেছে, এই নিদর্শনটি অনেকটা প্যারানধ্রোপাস ধরনের | বিজ্ঞানীদের অনুমান, যবদ্বীপে (জাভা) আবিষ্কৃত মেগানথোপাস-এর জীবাশ্ম কোন কোন দিক থেকে এই একই শ্রেণীর HBAS | তবে বিবর্তন পথে মেগানথোপাস হয়ত আরও কিছুটা অগ্রগতির পরিচায়ক।

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রাপ্ত জীবাশ্মগুলি যেমন চাঞ্চল্যকর তেমন তুলনীয়রূপে গুরুত্বপূর্ণ কিংবা আরও বিস্ময়কর পূর্ব আফ্রিকায় আবিষ্কৃত কঙ্কালশ্রেণী। যে ইতিহাস

৩০ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা

আজ পূর্ব আফ্রিকায় স্পষ্টতর হতে চলেছে তার গুরুত্ব অপরিমেয়। | প্রাচীনতম মানুষের সঙ্কটপূর্ণ রহস্যময় জীবনধারার প্রেক্ষাপটে এর আলোচনা প্রাসঙ্গিক অপরাপর বৃত্তাস্তগুলির অপরিহার্য | অতীতের জার্মান ইস্ট আফ্রিকার নিভৃত GAGA এই আবিষ্কারের রঙ্গভূমি। একদা জার্মানশাসিত এতদঞ্চলের পরবর্তী নাম হয় টাঙ্গানিকা। বর্তমান কালে এই MH তান্জানিয়া নামে পরিচিত। এখানে অবস্থিত সেরেঙ্গেতি প্রান্তর এবং ওলদুভাই-এর গভীর উপত্যকার SNES গুরুত্ব আজ সৃষ্টি করেছে নৃ-বিজ্ঞানী পুরাতাত্বিকদের পরম আগ্রহ। একদা ইতিহাসের দূরদিগস্তে এখানে যে অতিবাহিত হয়েছে মানুষের বিবর্তন-কাহিনীর এক পরম লগ্ন সে বিষয়ে তথ্যাদির অভাব নেই। প্লাইস্টোসীন পর্বে এই অঞ্চল বারংবার প্রভাবিত হয়েছে আর্দ্র এবং VS আবহাওয়ার দ্বারা। অবশ্য একটি আধুনিক মতবাদ অনুসারে এই প্রাইস্টোসীন অধ্যায়ের প্রারস্ত আজ থেকে কুড়ি লক্ষ বছর পূর্বে।১ ওলদুভাই উপত্যকা সেরেঙ্গেতি প্রান্তরে সংগঠনকে বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছে আগ্নেয়গিরির অগ্যুৎপাত সংশ্লিষ্ট নিসর্গ লীলা। ওলদুভাই নদীর সুউচ্চ তটচূড়ার সর্বনি্নে প্রসারিত আছে ভিলাফ্রাঞ্চীয় অনুপর্বের ব্যাসল্ট স্তর প্লায়োসীন এবং প্লাইস্টোসীন-এর অনির্দিষ্ট সন্ধিক্ষণই এই ভিলাফ্রাঞ্তীয় অনুপর্ব। ওলদুভাই নদীখাত (TAR) আবিষ্কারের কাহিনীটি বিশেষ চিত্তাকর্ষক।

১৯১১ সালে জার্মান বিজ্ঞানী, পতঙ্গবিদ (এনটোমোলজিস্ট) কাটুভিংকেল (Kattwinkel) সর্বপ্রথম এই তিনশ ফিট গভীর খাত-এর কিনারায় উপস্থিত হন প্রজাপতির সন্ধানে এগোতে এগোতে এই বিরাট ঢালে যখন তাঁর পা পিছলে যায় তখন কাটভিংকেলের সামনে ভেসে ওঠে একটি আশ্চর্য দৃশ্যপট, প্রাগৈতিহাসিক জীবনের লীলাভূমি ওলদুভাই উপত্যকা | এমন একটি বিশালতার সৌন্দর্য কাটুভিংকেলের মনকে বিমুগ্ধ করে এবং সেই সঙ্গে বিজ্ঞানীর সাধনা লাভ করে এক নূতন পরিসর | সমুন্নত তটপ্রাটীরের গাত্রে তিনি দেখতে পান অতীতের প্রস্তরীভূত কঙ্কালাদি। এগুলির কিছু তিনি নিয়ে যান বার্লিনে | ফলে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয় ওলদুভাই (জার্মান উচ্চারণ, ওলদোওয়ে) উপত্যকা গভীর নদীখাতের (কেনিয়ন) রহস্যের প্রতি।

এরপর এখানে এক সফল অভিযান পরিচালনা করেন হান্স রেক (Hans Reck) কিন্তু এসব উদ্দীপনার অবসান ঘটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলে। যুদ্ধের অবসানে হান্স রেক নাইরোবির কোরিনডন মিউজিয়ামে কর্মরত ডঃ লুই লিকিকে আগ্রহী করে তোলেন ওলদুভাই এর বিস্ময়কর সম্ভাবনার AS | ১৯৫১ সালে রেক লিকি যুগ্মভাবে

১। আ্যালান হাউটন ব্রোড্রিক £ “ম্যান eje হিজ আ্যানসেস্টরস্”, পৃষ্ঠা ১৩।

মানুষের বিবর্তন প্রস্তর যুগের প্রারস্ত ৩১

এই নদী খাতে অভিযানে ব্যাপৃত হন। এই সময় থেকে লিকি তার জীবন উৎসর্গ করেন ওলদুভাই-এ এবং সংঘটিত হয় নানা চমকপ্রদ আবিষ্কার 1 এই সব আবিষ্কারে তীর 3) শ্রীমতী লিকির দানও অসামান্য |

প্রাগৈতিহাসিক মানুষের জীবনপ্রসঙ্গে এখানে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উল্লিখিত “কেনিয়ন' অথবা নদী খাতের সর্বনিম্ন এবং তার উপরিভাগের স্তর শয্যাদ্বয় (বেডনং এবং ২)। অতীতের বিভিন্ন আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে নিঃসৃত পদার্থসমূহকে পটাসিয়াম-আগন পরীক্ষার দ্বারা দুইজন সুবিখ্যাত বিজ্ঞানী ডঃ এভারন্ডেন এবং ডঃ কার্টিস্‌ প্রথম স্তর শয্যাকে বিগত দশ লক্ষ বছরের THIS! কাল থেকে প্রায় কুড়ি লক্ষ বছর পর্যস্ত বিস্তৃত সময়ের অস্তর্গত নানা কালদিগস্তে নির্দেশ করেন। প্রথম স্তর শয্যার সংস্তরগুলির প্রাটীনত্‌ নির্দিষ্ট হবার ফলে প্রাগৈতিহাসিক মানুষের অভ্যুদয় এবং প্রস্তর যুগের প্রারস্ত সম্বন্ধে আমাদের ধারণা আরও স্পষ্টতর হয়েছে। ডঃ ফ্রেইশার, ডঃ ওয়াকার এবং ডঃ প্রাইস ওলদুভাই-এর একই সংস্তরগুলিতে প্রাপ্ত আগ্নেয়গিরি-নিঃসৃত কাচের উপর ইউরেনিয়াম ফিশন ট্র্যাক" পদ্ধতি প্রয়োগ করে কতকটা তুলনীয় প্রাচীনত্বে উপনীত হন। ওলদুভাই-এর প্রথম স্তর-শয্যায় (বেড নং ১) আবিষ্কৃত জীবাশ্মগুলি যে ধরনের হোমিনিড গোস্রীয়দের পরিচয় দেয় তাদের কিছুটা বর্ণনা নিম্নে দেওয়া হল £

১। জিনজানথ্রোপাস বোইসেই অথবা প্যারনপ্রোপাস বোইসেই। এর ভগ্ন করোটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে। এই